উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে প্রথম এ লক্ষ্য থাকে, যেকোন উপায়ে দেশটির একটি ভিসা সংগ্রহ করা। কিন্তু ভিসা সংগ্রহের পূর্বে যে একগুচ্ছ ধাপ অতিক্রম করে আসতে হয় অথবা নিজেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হয়-তা আমরা অধিকাংশই ভুলে যাই। এই কথার পর অনেকের মনেই একটা কথা আসবে, ও আচ্ছা! আপনি ইউনিভার্সিটির অফার লেটারের কথা বলছেন, সেটা হয়ে যাবে।

না, আমি এখানে ঠিক অফার লেটারের কথা বলছি না। সেটা বেশ পরের কথা। তার আগে আসবে, একজন শিক্ষার্থীর মানসিক প্রস্তুতি। এখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে শুধু জার্মানিতে মাস্টার্স করতে যাওয়ার কথাই বলবো।

নিজের মানসিক প্রস্তুতি: এটা এত বড় একটা ধাপ যে আমরা গুরুত্ব দেই না। না শিক্ষার্থীরা এটা মাথায় রাখে, না অভিভাবকরা একে গুরুত্ব দেন। বিদেশ পড়তে ইচ্ছুক এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আমি এই প্রশ্ন করেছি, কেন জার্মানিতে পড়তে আসা। উত্তর ছিল অনেকটা এরকম, ‘খুব কাছের বেশ কিছু বন্ধু/ বান্ধবী জার্মানিতে পড়ছে, ভালো আছে, তাই আমিও যেতে চাই। ‘অথবা, ‘মা বাবার ইচ্ছে, বিদেশ পড়তে যাই, তাই যাওয়া। সব দেশেই চেষ্টা করছি, যেখানে সহজে কম কষ্টে যাওয়া যাবে সেখানেই যাব। ‘কেউ কেউ বলেছেন, ‘দেশে কোন সুযোগ নেই, তাই বিদেশই ভরসা। ‘কেউ বা বলে, ‘একবার ইউরোপে ঢুকতে পারলে, ইউরোপ ঘুরা যাবে। সেজন্যই যেতে চাই।‘ আর সেলফ ফাইনান্সে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তো টাকা পয়সার বিষয় তো আছেই।

বিদেশে পড়ালেখা সত্যিকার অর্থেই কঠিন, কঠিন এবং কঠিন। কঠিন মানে পড়ার ভলিউম বা অনেক কিছু মুখস্ত অথবা অনেক ফিল্ড ওয়ার্ক বা এক্সপেরিমেন্ট বা এসাইনমেন্ট না। কঠিন বলতে স্ট্যান্ডার্ড। একটা আন্তর্জাতিক মান, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব কমই গুরুত্ব দেয়া হয়। আর এই আন্তর্জাতিক মানের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর জন্য আমি কতটা প্রস্তুত, সেই প্রশ্ন আসা উচিত সবার আগে।অন্যকে অনুসরণ করে নয়, নিজের জন্য, নিজের প্রয়োজনে এবং নিজ দায়িত্বেই আমি বিদেশ গিয়ে পড়াশুনা করতে চাই-এই মানসিক প্রস্তুতি আপনার সামগ্রিক প্রস্তুতিকে অনেকখানিই এগিয়ে নিবে। 

যদি জার্মানির কথা বলি। তাহলে জার্মানির ভাষা, আইন, পোশাক, খাবার এমনকি আবহাওয়া পর্যন্ত আপনার পরিচিত নয়। সব কিছুর সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার পাশাপাশি আপনাকে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে। তাই, বিষয়টা কিন্তু সহজ নয়। তবে আপনি যদি মনে করেন, আপনি সম্পূর্ণভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত, সেক্ষেত্রে আমরা চলে যেতে পারি পরবর্তী ধাপে।

সময় নির্ধারণ: জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে সেশন শুরু হওয়া অথবা ভর্তির আবেদনের সময়সূচি এবং প্রক্রিয়াও ভিন্ন। যেহেতু জার্মানির বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কোর্সগুলো শীতকালীন সেমিস্টারে শুরু করে, সেক্ষেত্রে সেশনগুলো শুরু হয় সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে। কিছু কিছু কোর্স অবশ্য গ্রীষ্মকালীনও হয়, সেক্ষত্রে সেশন শুরু হয় মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে। কিছু কিছু কোর্সের অবশ্য দুই সেশনেই ভর্তি নিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আবেদনের প্রস্তুতি আগেই নিতে হবে। কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং কীভাবে তার প্রস্তুতি নিবেন সে বিষয়ে অন্য আরেকটি লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করবো। 

বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা: পরবর্তী ধাপ হবে, যে বিষয়টি নিয়ে পড়তে চাই, সেটা খোঁজা। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে, লিংক নিচে দেয়া হলো। তাছাড়া চাইলে সরাসরি বিষয়টির নাম লিখেও গুগল করা যায়। এছাড়া WS ranking দেখে অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় আগে খুঁজে নেন এবং সেখানে কোন একটা বিষয় পড়ার জন্য বেছে নেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর বিরোধী। আমার কাছে আমি যা পড়তে ইচ্ছুক, সেটা যেখানে ভালো পড়াবে আমি সেখানেই যাব। বিষয় খোঁজার সময় অবশ্যই ঐ বিষয়ের অধীনে কী কী টপিক পড়ানো হবে যা দেখে নিবেন। অনেক সময়ই টাইটেল পছন্দ হলেও, ভিতরের টপিক পছন্দ নাও হতে পারে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দমত বিষয়টি খুঁজে পেলে সেক্ষেত্রে র্যাং কিং এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে পারেন।

www.studying-in-germany.org
www.mastersportal.eu
www.studyportals.com​

Supty
Open Access Bangladesh Copyright © 2017
Developed by: Orangebd
Daily Quiz